Newsletter

Hello
Terms and Condition Welcome
Joomla : Baste hole jante hob

Simple Flickr

A photo on Flickr

flickr

Home
ঝুঁকিপূর্ণ যুবসমাজ ও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য প্রতিরোধ কার্যক্রম PDF Print E-mail
Written by Administrator   
Wednesday, 16 November 2011 06:59

 

বাংলাদেশে এইচআইভি/এইডস পরিচিতি

বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে এইচআইভি/এইডস এর প্রাদুর্ভাব এখনো কম। তবে সুঁইয়ের মাধ্যমে মাদক ব্যবহারকারী (আইডিইউ)-দের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের হার বাড়ছে। গবেষণা থেকে জানা যায় যে, বেশিরভাগ আইডিইউ মাদক নেওয়ার সময় নিজেদের মধ্যে সিরিঞ্জ ভাগাভাগি করে। অর্ধেকেরও বেশি পুরুষ আইডিইউ অর্থের বিনিময়ে যৌনকাজে লিপ্ত হয়। নারী যৌনকর্মীদের মধ্যে কনডম ব্যবহার ধীরে ধীরে বাড়লেও তাদের খদ্দের আইডিইউদের মধ্যে প্রায় ৫০ ভাগ কখনো কনডম ব্যবহার করে না।

যুবসমাজের উপর পরিচালিত ২০০৮ সালের এইচআইভি সমাপনী জরিপ (এন্ডলাইন সার্ভে) থেকে জানা যায় যে প্রায় ৪১ ভাগ তরুন-তরুনি এইচআইভি প্রতিরোধের অন্তত দু’টি সঠিক উপায়ের কথা জানে। তারা নিজেদের এইচআইভি-তে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকির বিষয়টি বোঝে এবং আগের তুলনায় তাদের মধ্যে কনডম ব্যবহার বেড়েছে।

 

বাংলাদেশে গ্লোবাল ফান্ডের সহায়তায় এইচআইভি/এইডস প্রতিরোধ কর্মসূচি

বাংলাদেশ দু’বার গ্লোবাল ফান্ড থেকে অনুদান পেয়েছে। প্রথম দফায় যুবসমাজের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণ প্রতিরোধের লক্ষে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৫ বছরের (২০০৪-২০০৯) জন্য অনুদান পেয়েছে এবং দ্বিতীয় দফায় আগের কর্মসূচিকে জোরদার করা এবং সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে উদ্দেশ্য করে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আরো ৫ বছরের (২০০৭-২০১২) জন্য অনুদান পেয়েছে। এই দু’টি প্রকল্পের অর্থ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ সরকার এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করছে সেভ দি চিলড্রেন। এছাড়াও, প্রথম দফার অনুদান সফলভাবে ব্যবহার করার স্বীকৃতিস্বরূপ আগের কর্মসূচিকে এগিয়ে নিতে গ্লোবাল ফান্ড অতিরিক্ত ৬ বছরের (২০০৯-২০১৫) জন্য অর্থ বরাদ্দ করেছে। অতিরিক্ত এই অনুদানকে বলা হচ্ছে আরসিসি-রোলিং কন্টিনিউশন চ্যানেল ফান্ড।

গ্লোবাল ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত বাংলাদেশের এইচআইভি/এইডস কার্যক্রম বিশ্বজুড়ে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে। এই কার্যক্রম এশিয়ার মধ্যে ‘সেরা চর্চা’-র মর্যাদা লাভ করেছে। এছাড়াও গ্লোবাল ফান্ডের কার্যক্রম হিসেবে “এ” রেটিং পেয়েছে। বাংলাদেশের কার্যক্রমকে ১৩টি প্রধান ভাগে ভাগ করে ৪৪টি সংস্থা নিয়ে গঠিত ১৩টি কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সেভ দি চিলড্রেন প্রকল্পের কর্মসূচি ব্যবস্থাপনা, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, কারিগরি নির্দেশনা, পরিবিক্ষন, পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন, ক্রয় ব্যবস্থাপনা ও প্রতিবেদন তৈরির কাজ করছে। পুরো প্রক্রিয়াটি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে ও সমন্বয়ে পরিচালিত কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটিং মেকানিজম (সিসিএম)-এর তত্ত্বাবধানে কাজ করে থাকে।

 

গণমাধ্যমে এইচআইভি/এইডস

প্রকল্পের কর্মকান্ড তিনটি কৌশলকে ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে। এগুলো হলো- প্রতিরোধমূলক তথ্য; সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী ও যুবসমাজের জন্য কর্মকাণ্ড-পরিচালনা এবং এনজিও/সিবিওদের সক্ষমতা তৈরি করা।

প্রকল্পের উদ্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা এবং তাদের আচরণগত উন্নয়ন ঘটাতে তাদেরকে প্রতিরোধমূলক তথ্য দেওয়া হচ্ছে। এলক্ষ্যে বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে প্রচারাভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে একথা মনে রাখতে হবে যে, বাংলাদেশের মানুষ তুলনামূলকভাবে সংরক্ষণশীল ও ধর্মপরায়ণ এবং এখানকার সাংস্কৃতিক নিয়মকানুনগুলো এমনই যে যৌন আচরণ ও কনডম ব্যবহার সংক্রান্ত তথ্য প্রচার সহজ কোন কাজ নয়। যেকোন সময় বাধাপ্রাপ্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়ে গেছে। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে আচরণ পরিবর্তন যোগাযোগ (বিসিসি) এমনভাবে সাজানো হয়েছে যে, কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে কোন ধরনের সামাজিক প্রতিরোধের মুখোমুখি হতে না হয়।

একথা বিবেচনায় রেখে ২০০৫ সালে বাংলাদেশের গণমাধ্যম ও সংবাদপত্রে বাঁচতে হলে জানতে হবে সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান শুরু করা হয়েছিল। দ্রুতই এই শেস্নাগান সবার মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে। তরুণ প্রজন্ম তো বটেই এমনকি সাধারণ মানুষের মাঝেও প্রচারাভিযান গ্রহণযোগ্যতা পায়। এই প্রচারাভিযান উদ্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর মধ্যে এইচআইভি বিষয়ে একটি ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তোলে। যা তাদের মধ্যে স্বাস্থ্যসম্মত আচরণ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে।

এই প্রচারাভিযানের সাফল্য অন্য সামাজিক ইস্যুগুলোর প্রচারাভিযানের জন্য একটি উদাহরণ তৈরি করে দেয়। একটি টেকসই সুবিধাজনক প্রচারাভিযান কিভাবে তৈরি করতে হয় তার একটি মডেলে পরিণত হয় বাঁচতে হলে জানতে হবে প্রচারাভিযান। এখানে এইচআইভি/এইডস বিষয়টি কি, এর প্রতিরোধের দরকার কেন, প্রতিরোধের উপায়গুলো কি, কেন নিজেকে জানতে হবে এবং কেন অন্যকে জানাতে হবে সবকিছু অত্যন্ত সুন্দরভাবে ফুঁটিয়ে তোলা হয়েছে। কৌশলগত অবস্থান তৈরির ফলে সমস্যাগুলো যেমন সমাধান করা সহজতর হয়েছে, উদ্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর কাছে সুবিধাগুলো পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে, এর মাধ্যমে ব্যক্তির ভাবমূর্তি বৃদ্ধির কথাও বলা হয়েছে। পুরো প্রচারাভিযানে মানুষকে তার নিজের প্রতি দায়িত্বশীল করে তোলার পাশাপাশি সামাজিক সম্পর্কগুলোকে অর্থপূর্ণ করে তোলার দিকটা তুলে ধরা হয়েছে যাতে করে এর মাধ্যমে সংবেদনশীল উদ্দীপনা যেমন পাওয়া গিয়েছে তেমনি বুদ্ধিবৃত্তিক সমাধানগুলোও তুলে ধরা হয়েছে।

 

কার্যক্রম পরিচালনার অভিজ্ঞতা ও ফলাফল

স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো ও গণমাধ্যমের মাধ্যমে পরিচালিত প্রচারাভিযান ব্যাপকভাবে মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পেরেছে

স্থানীয় দৈনিক সংবাদপত্রগুলোতে এইচআইভি প্রতিরোধের তথ্য প্রচার করা খুবই কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে

♦ টেলিভিশন অনুষ্ঠানমালা খুবই কার্যকরী এবং এর প্রভাব ব্যাপক (টেলিভিশনের দর্শক সংখ্যা ৯২ শতাংশ)

♦ ব্যক্তিমালিকানাধীন গণমাধ্যম আরো বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এবং এর কাভারেজও বাড়ছে

♦ এইচআইভি প্রতিরোধের তথ্য প্রচার করার ক্ষেত্রে ‘রিকশা প্যানেল’ করা একটি কার্যকর আউটডোর মিডিয়া

♦ এইচআইভি সম্পর্কে সামগ্রিকভাবে ভুল ধারণা যেমন রয়েছে তেমনি এইচআইভি আক্রান্ত মানুষকে অপবাদ দেওয়া ও তাদের প্রতি বৈষম্য রয়ে গেছে, যার পরিমাণ ১৩ শতাংশ

♦ এইচআইভি প্রতিরোধের ক্ষেত্রে সামাজিক নেতৃবৃন্দের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ

 

জাতীয় পর্যায়ে কার্যক্রমের অবদান

এই প্রচারাভিযানের মাধ্যমে এইচআইভি কিভাবে ছড়ায় সংক্রান্ত জ্ঞান প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে (৪৪% থেকে ৮৫%), এইচআইভি সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি যে সবার মধ্যে রয়েছে সেক্স সংক্রান্ত জ্ঞান শহরতলীর যুবকদের মধ্যে বেড়েছে (৯.৫৫ থেকে ১৪.৩১) এবং যুবসমাজের মধো কনডম ব্যবহারের হার ৩৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪৪ শতাংশ হয়েছে। যৌনকর্মীদের কাছে যায় এমন তরুণ খদ্দেরদের মধ্যে কনডম ব্যবহার ২০০৫ সালের ১৪.১ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০০৮ সালে ৪৮.৩ শতাংশ হয়েছে। (প্রকল্পের ২০০৮ সালের এন্ডলাইন সার্ভে অনুযায়ী)

কাজের ক্ষেত্রে  চ্যালেঞ্জ

 

সাংস্কৃতিকভাবে সংবেদনশীল একটি কর্মসূচি বাস্তবায়ন সহজ নয়। যেকারণে প্রতিটি বার্তা তৈরি করার সময় বাংলাদেশের সংরক্ষণশীল সমাজ ও সাংস্কৃতিক নিয়মকানুনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। কর্মসূচি তৈরিকালে গ্রামের নারী ও মেয়েশিশুদের কথা মনে রেখে উদ্দিষ্ট জনগোষ্ঠী ও সাধারণ মানুষের জন্য কর্মসূচি প্রণয়ন করা হয়েছে। পরবর্তীতে কাজ করতে গিয়ে জানা গিয়েছে যে, সমাজের বাসিন্দারা এখনো কনডম সংক্রান্ত বার্তা সরাসরি গ্রহণের জন্য প্রস্তুত নয়। তাছাড়া টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রচারাভিযান পরিকল্পনা করার ক্ষেত্রে সম্পদের সীমাবদ্ধতার বিষয়টি সামনে চলে এসেছে।

 

উপসংহার

পুরুষ ও যুবসমাজের মধ্যে এইচআইভি সম্পর্কিত জ্ঞানের অভাব এবং কনডম ব্যবহারের নিম্ন হার খুবই সুস্পষ্ট। বাংলাদেশের সমাজে কনডম ব্যবহারের ব্যাপারে সামাজিক নীরবতা ও যে অপবাদের ভয় জড়িয়ে আছে তা যৌন সংক্রমণ ও অন্যান্য যৌন রোগ প্রতিরোধ ও সুরক্ষা পাওয়ার ক্ষেত্রে হুমকিস্বরূপ। এই ধরনের সামাজিক পরিস্থিতি অবিবাহিত ছেলেদের কনডম কেনা থেকে বিরত রাখে,কিন্তু তারা যৌন কাজ থেকে বিরত হয় না। এই অবস্থায় কনডম ব্যবহারের উপকারিতা ব্যাপকভাবে প্রচার করা দরকার যাতে করে এনিয়ে যে লজ্জা কাজ করছে তা কেটে যায় এবং নিরাপদ যৌন কাজ ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে কনডম জনপ্রিয় হয়ে উঠে।

 

কৃতজ্ঞতা স্বীকার

দি গ্লোবাল ফান্ড টু ফাইট এইডস, টিউবারকিউলোসিস এবং ম্যালেরিয়া, জাতীয় এইডস/এসটিডি প্রোগ্রাম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ, বাস্তবায়নকারী অংশীদার সংস্থা-মাত্রা কনসোর্টিয়াম

 

আরো জানতে:

জাতীয় এইডস/এসটিডি প্রোগ্রাম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ

ইমেইল: This e-mail address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it , www.bdnasp.net এবং

সেভ দি চিলড্রেন, বাংলাদেশ অফিস

ইমেইল: This e-mail address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it

 

Last Updated on Monday, 02 January 2012 17:14
 

Implementing Partners

Latest News

Previous Next
  • 1
  • 2
Welcome to the Frontpage Welcome to the Frontpage Welcome to the Frontpage Welcome to the Frontpage Welcome to the Frontpage Welcome to the Frontpage Read more
Bangladesh HIV Data 2010 and World AIDS Day Keynote presentation Bangladesh HIV Data 2010 and World AIDS Day Keynote presentation Bangladesh HIV Data 2010 and World AIDS Day Keynote presentation Read more

Flickr

Flickr + Highslide encountered an error

Error: SSL is required

Find us in Facebook




Copyright 2011 @ STC.